বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল ভূমি সেবায় হয়রানি নেই: বিভাগীয় কমিশনার

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম বলেছেন, ভূমির সব সেবা এখন ডিজিটালি সম্পন্ন হচ্ছে। কেউ ইচ্ছে করলেই ভূমি মালিকদের হয়রানি করার সুযোগ নেই। ঢাকা বিভাগের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই নামজারি সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শিগগিরই ঢাকা জেলাকে ভূমিহীনমুক্ত জেলা ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। অপরদিকে ঢাকার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেছেন, ভূমিসেবা নিয়ে মালিকদের অভিযোগ আগের চেয়ে এখন অনেক কম। সোমবার ভূমিসেবা সপ্তাহ ২০২৩ উপলক্ষ্যে বিভাগীয় কমিশন ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত পৃথক দুইটি সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত ২৩ মার্চ স্মার্ট ভূমিসেবা কার্যক্রম উদ্বোধন কনেছেন। অংশীজন হিসেবে জনগণকে স্মার্ট ভূমিসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এ সেবা সপ্তাহের আয়োজন। সরকার চাচ্ছে জনগণের মূল্যবান সময় ও অর্থকড়ি বাাঁচিয়ে তাদের ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়া।

যাদের জমি জমা নিয়ে জটিল সমস্যা সেবা সপ্তাহে ভূমি অফিসে গেলে আগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের সেবা দেওয়া হবে। ইউনিয়ন থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় পর্যন্ত সব ভূমি অফিস এ সপ্তাহে শুধু সেবা প্রদান করবে। ভূমি সেবার সপ্তাহের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে মূল্যবান পরামর্শ উঠে আসবে।

ইতিবাচক পরামর্শ পরবর্তীতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশ ভূমিসেবায় অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। আরও আগ্রসর হবে এবং আগামী দুই বছর পর আর ভূমি নিয়ে কোন সমস্যা হয়ত আর থাকবেই না।

ঢাকার ডিসি মমিনুর রহমান বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত ১৪ দিনের আগেই নামজারি করেছি। এ বিষয়ে ফাঁকি দেওয়ার কোনো উপায় নাই। অনলাইনে আবেদন করলে ঝুঁলিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

গ্রাহকের আবেদন গ্রহণ করতে হবে অন্যথায় বাতিল করতে হবে; কিন্তু ঝুঁলিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। অনেক সময় দেখা গেছে জমির কাগজপত্র নথি থেকে হারিয়ে যায় বা পুড়ে যায়। অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে এসব করে থাকে। তাই আমরা চেষ্টা করছি সব জমির ছায়া নথি তৈরি করার। এটা হয়ে গেলে নথি হারিয়ে গেলেও যেন সেগুলো পাওয়া যায়।

ঢাকার সব ভূমি অফিস ক্যাশলেস ঘোষণা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবায় অনলাইনে শুনানি গ্রহণসহ অফিসের বাইরে গণশুনানি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, লিজ নবায়নের আধুনিকায়ণে ঢাকা জেলা প্রশাসন কার্যকর বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

ঢাকা জেলার প্রশাসন সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ যাবত ৫৬ একর খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে এবং কার্যক্রম অব্যাহত। এছাড়া যাছাই-বাছাইকরণের মাধ্যমে ঢাকা জেলার অসহায়, দরিদ্র, গৃহহীন, দুস্থদের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ আশ্রায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্বাসনসহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ডিজিটাল ভূমি সেবায় হয়রানি নেই: বিভাগীয় কমিশনার

Update Time : ০৬:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ মে ২০২৩

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম বলেছেন, ভূমির সব সেবা এখন ডিজিটালি সম্পন্ন হচ্ছে। কেউ ইচ্ছে করলেই ভূমি মালিকদের হয়রানি করার সুযোগ নেই। ঢাকা বিভাগের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই নামজারি সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শিগগিরই ঢাকা জেলাকে ভূমিহীনমুক্ত জেলা ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। অপরদিকে ঢাকার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেছেন, ভূমিসেবা নিয়ে মালিকদের অভিযোগ আগের চেয়ে এখন অনেক কম। সোমবার ভূমিসেবা সপ্তাহ ২০২৩ উপলক্ষ্যে বিভাগীয় কমিশন ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত পৃথক দুইটি সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত ২৩ মার্চ স্মার্ট ভূমিসেবা কার্যক্রম উদ্বোধন কনেছেন। অংশীজন হিসেবে জনগণকে স্মার্ট ভূমিসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এ সেবা সপ্তাহের আয়োজন। সরকার চাচ্ছে জনগণের মূল্যবান সময় ও অর্থকড়ি বাাঁচিয়ে তাদের ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়া।

যাদের জমি জমা নিয়ে জটিল সমস্যা সেবা সপ্তাহে ভূমি অফিসে গেলে আগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের সেবা দেওয়া হবে। ইউনিয়ন থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় পর্যন্ত সব ভূমি অফিস এ সপ্তাহে শুধু সেবা প্রদান করবে। ভূমি সেবার সপ্তাহের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে মূল্যবান পরামর্শ উঠে আসবে।

ইতিবাচক পরামর্শ পরবর্তীতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশ ভূমিসেবায় অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। আরও আগ্রসর হবে এবং আগামী দুই বছর পর আর ভূমি নিয়ে কোন সমস্যা হয়ত আর থাকবেই না।

ঢাকার ডিসি মমিনুর রহমান বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত ১৪ দিনের আগেই নামজারি করেছি। এ বিষয়ে ফাঁকি দেওয়ার কোনো উপায় নাই। অনলাইনে আবেদন করলে ঝুঁলিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

গ্রাহকের আবেদন গ্রহণ করতে হবে অন্যথায় বাতিল করতে হবে; কিন্তু ঝুঁলিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। অনেক সময় দেখা গেছে জমির কাগজপত্র নথি থেকে হারিয়ে যায় বা পুড়ে যায়। অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে এসব করে থাকে। তাই আমরা চেষ্টা করছি সব জমির ছায়া নথি তৈরি করার। এটা হয়ে গেলে নথি হারিয়ে গেলেও যেন সেগুলো পাওয়া যায়।

ঢাকার সব ভূমি অফিস ক্যাশলেস ঘোষণা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবায় অনলাইনে শুনানি গ্রহণসহ অফিসের বাইরে গণশুনানি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, লিজ নবায়নের আধুনিকায়ণে ঢাকা জেলা প্রশাসন কার্যকর বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

ঢাকা জেলার প্রশাসন সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ যাবত ৫৬ একর খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে এবং কার্যক্রম অব্যাহত। এছাড়া যাছাই-বাছাইকরণের মাধ্যমে ঢাকা জেলার অসহায়, দরিদ্র, গৃহহীন, দুস্থদের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ আশ্রায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্বাসনসহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।