শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিরাই যাত্রী ছাউনি বখাটেদের আস্তানা

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের দিরাই রাস্তার মোড়ে যাত্রী ছাউনি দীর্ঘদিন ধরে বখাটে ও ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। একাধিক প্রশাসনিক অভিযানে জরিমানা করার পরও দখলমুক্ত হয়নি। যাত্রীদের জন্য নির্মিত এই ছাউনিটি এখন টিকেট কাউন্টার, পানের দোকান এবং মাদকসেবীদের আড্ডার স্থানে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত এই যাত্রী ছাউনিটি বর্তমানে ব্যবসায়ী ও বখাটেদের কবলে। দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল হামিদের টিকেট কাউন্টার এবং ফয়েজুল হকের পানের দোকান এখানে চালু রয়েছে। এসবের আড়ালে মাদক বিক্রি ও নেশাসেবনের মতো কর্মকাণ্ড চলছে।

নারী যাত্রীরা ছাউনিতে আসতে ভয় পাচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেটগামী দুই নারী যাত্রী ছাউনিতে বসা অবস্থায় বখাটেরা টিকটকের ভিডিও চালানোর পাশাপাশি তাদের উত্ত্যক্ত করে। এক পর্যায়ে তারা ছাউনি ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি নাজির আহমদ বলেন, “এই ছাউনি আমাদের এলাকার জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”

অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে এবং জরিমানাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ছাউনি ছেড়ে দিই, তাহলে এটি নোংরা হয়ে যায়। অফিসারেরা বলেছেন, আমরা যেন এখানে থাকি। তবে ইভটিজিংয়ের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।”

এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যাত্রী ছাউনি দখলমুক্ত এবং যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দিরাই যাত্রী ছাউনি বখাটেদের আস্তানা

Update Time : ০৬:১১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের দিরাই রাস্তার মোড়ে যাত্রী ছাউনি দীর্ঘদিন ধরে বখাটে ও ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। একাধিক প্রশাসনিক অভিযানে জরিমানা করার পরও দখলমুক্ত হয়নি। যাত্রীদের জন্য নির্মিত এই ছাউনিটি এখন টিকেট কাউন্টার, পানের দোকান এবং মাদকসেবীদের আড্ডার স্থানে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত এই যাত্রী ছাউনিটি বর্তমানে ব্যবসায়ী ও বখাটেদের কবলে। দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল হামিদের টিকেট কাউন্টার এবং ফয়েজুল হকের পানের দোকান এখানে চালু রয়েছে। এসবের আড়ালে মাদক বিক্রি ও নেশাসেবনের মতো কর্মকাণ্ড চলছে।

নারী যাত্রীরা ছাউনিতে আসতে ভয় পাচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেটগামী দুই নারী যাত্রী ছাউনিতে বসা অবস্থায় বখাটেরা টিকটকের ভিডিও চালানোর পাশাপাশি তাদের উত্ত্যক্ত করে। এক পর্যায়ে তারা ছাউনি ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি নাজির আহমদ বলেন, “এই ছাউনি আমাদের এলাকার জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”

অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে এবং জরিমানাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ছাউনি ছেড়ে দিই, তাহলে এটি নোংরা হয়ে যায়। অফিসারেরা বলেছেন, আমরা যেন এখানে থাকি। তবে ইভটিজিংয়ের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।”

এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যাত্রী ছাউনি দখলমুক্ত এবং যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন তারা।