শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সবজির দরে ধস: ভোক্তারা স্বস্তিতে, চাষীরা হতাশায়

সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন জেল রোড এলাকার সুরমা নদী তীরবর্তী বিস্তৃত এলাকাজুড়ে বসে সবজির অস্থায়ী বাজার। এটি জেলার সর্ববৃহৎ সবজির পাইকারি মোকাম। এখানে ভোর থেকে শুরু কর্মযজ্ঞ। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে উৎপাদিত সবজি নিয়ে এই পাইকারি বাজারে আসেন চাষীরা। মাত্র তিন থেকে ৪ ঘণ্টায় এই পাকারি হাটে কোটি টাকার সবজির বেচাকেনা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, গেল দুই সপ্তাহ ধরে শহরের এই সবজির মোকামে বেড়েছে শীতকালীন সবজির সরবরাহ। বাজারে উঠতে শুরু করেছে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত লাউ, শিম, টমেটো, ফুলকপি, বাধাকপি, বিভিন্ন প্রকারের শাক, ধনিয়া, করলা, মূলাসহ শীতকালীন বিভিন্ন প্রকারের সবজি। সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কমেছে সকল প্রকারের সবজির দাম। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে। তবে সবজির দরে ধস নেমেছে বলে জানিয়েছেন চাষীরা। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা বীরগাঁও গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ সপ্তাহের তিন দিন শহরের পাইকারি বাজার থেকে সবজি ক্রয় করেন। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট তিনি। অল্প পুঁজিতে বেশি সবজি ক্রয় করতে পেরে খুশি তিনি। সবজির বাজারের এমন অবস্থায় খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের মধ্য স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানান এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

বাজারে সবজি ক্রয় করতে আসা আব্দুস সালাম নামে এক ক্রেতা বলেন, আমি রোজ সকালে সবজির বাজার করতে আসি। বর্তমান সবজির বাজার অনেকটাই সহনশীলতার মধ্যে রয়েছে। সকল সবজির দাম কম। ১০০ টাকার মধ্যে কয়েক প্রকারের সবজি কেনা যায়।

এদিকে সবজি উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজার মূল্য কম থাকায় অসন্তোষ দেখাগেছে পাইকারি মোকামে সবজি নিয়ে আসা চাষীদের মধ্যে। ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের সবজি চাষী মিজানুর রহমান, বাজারের অবস্থা ভালোনা। ফুল কপি ৫ টাকা, ১০ টাকা পিসে বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ একটি ফুল কপিতে খরচ পড়েছে ১২-১৩ টাকা। বাজারে সবজি নিয়ে এসে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না।

মুসলিমপুর গ্রামের সবজি চাষী রহমত আলী বলেন, সবকিছুর দাম বাড়তি। বীজ, সার, শ্রমিকের মজুরি দিয়ে কিছুই থাকছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পথে বসতে হবে। বাজারে ঘুরে দেখা যায়, শিম প্রকার ভেদে কেজি প্রতি ১২- ২৫ টাকা, টমেটো ৪০-৬০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ১০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, লাউ ১০ টাকা, বেগুন কেজি প্রতি ৩০ টাকা, আলু ৪০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ কেজি প্রতি ৬০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বাজার সাধারণের ক্ষয়ক্ষয়মতার মধ্যে বলে জানান মোকামেরা আড়তদাররা।

শফিকুল হক ট্রেডার্সের আড়তদার নাজমুল হক বলেন, কিছুদিন আগেও সবজির দাম ছিল লাগামহীন। গত দুই সপ্তাহ ধরে সবজির আমদানি বেড়েছে। তাই বাজার এখন ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে। তবে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানান তিনি। সুনামগঞ্জের এই পাইকারি বাজার থেকে সবজি সংগ্রহ করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়িরা। ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সবজির দরে ধস: ভোক্তারা স্বস্তিতে, চাষীরা হতাশায়

Update Time : ০৬:৫৯:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৫

সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন জেল রোড এলাকার সুরমা নদী তীরবর্তী বিস্তৃত এলাকাজুড়ে বসে সবজির অস্থায়ী বাজার। এটি জেলার সর্ববৃহৎ সবজির পাইকারি মোকাম। এখানে ভোর থেকে শুরু কর্মযজ্ঞ। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে উৎপাদিত সবজি নিয়ে এই পাইকারি বাজারে আসেন চাষীরা। মাত্র তিন থেকে ৪ ঘণ্টায় এই পাকারি হাটে কোটি টাকার সবজির বেচাকেনা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, গেল দুই সপ্তাহ ধরে শহরের এই সবজির মোকামে বেড়েছে শীতকালীন সবজির সরবরাহ। বাজারে উঠতে শুরু করেছে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত লাউ, শিম, টমেটো, ফুলকপি, বাধাকপি, বিভিন্ন প্রকারের শাক, ধনিয়া, করলা, মূলাসহ শীতকালীন বিভিন্ন প্রকারের সবজি। সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কমেছে সকল প্রকারের সবজির দাম। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে। তবে সবজির দরে ধস নেমেছে বলে জানিয়েছেন চাষীরা। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা বীরগাঁও গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ সপ্তাহের তিন দিন শহরের পাইকারি বাজার থেকে সবজি ক্রয় করেন। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট তিনি। অল্প পুঁজিতে বেশি সবজি ক্রয় করতে পেরে খুশি তিনি। সবজির বাজারের এমন অবস্থায় খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের মধ্য স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানান এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

বাজারে সবজি ক্রয় করতে আসা আব্দুস সালাম নামে এক ক্রেতা বলেন, আমি রোজ সকালে সবজির বাজার করতে আসি। বর্তমান সবজির বাজার অনেকটাই সহনশীলতার মধ্যে রয়েছে। সকল সবজির দাম কম। ১০০ টাকার মধ্যে কয়েক প্রকারের সবজি কেনা যায়।

এদিকে সবজি উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজার মূল্য কম থাকায় অসন্তোষ দেখাগেছে পাইকারি মোকামে সবজি নিয়ে আসা চাষীদের মধ্যে। ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের সবজি চাষী মিজানুর রহমান, বাজারের অবস্থা ভালোনা। ফুল কপি ৫ টাকা, ১০ টাকা পিসে বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ একটি ফুল কপিতে খরচ পড়েছে ১২-১৩ টাকা। বাজারে সবজি নিয়ে এসে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না।

মুসলিমপুর গ্রামের সবজি চাষী রহমত আলী বলেন, সবকিছুর দাম বাড়তি। বীজ, সার, শ্রমিকের মজুরি দিয়ে কিছুই থাকছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পথে বসতে হবে। বাজারে ঘুরে দেখা যায়, শিম প্রকার ভেদে কেজি প্রতি ১২- ২৫ টাকা, টমেটো ৪০-৬০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ১০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, লাউ ১০ টাকা, বেগুন কেজি প্রতি ৩০ টাকা, আলু ৪০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ কেজি প্রতি ৬০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বাজার সাধারণের ক্ষয়ক্ষয়মতার মধ্যে বলে জানান মোকামেরা আড়তদাররা।

শফিকুল হক ট্রেডার্সের আড়তদার নাজমুল হক বলেন, কিছুদিন আগেও সবজির দাম ছিল লাগামহীন। গত দুই সপ্তাহ ধরে সবজির আমদানি বেড়েছে। তাই বাজার এখন ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে। তবে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানান তিনি। সুনামগঞ্জের এই পাইকারি বাজার থেকে সবজি সংগ্রহ করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়িরা। ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।