বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাক্ষীরা অনুপস্থিত : কিবরিয়া হত্যা ও সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাল

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলা এবং সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাক্ষীরা অনুপস্থিত থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিনে সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় বিচারক স্বপন কুমার সরকার আগামী ৩০ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে পৃথকভাবে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তবে নির্ধারিত ১৪ জন সাক্ষীর কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আদালত সূত্র জানায়, কিবরিয়া হত্যা মামলায় ৭ জন এবং সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলায় ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আবুল হোসেন বলেন, “সাক্ষীরা অনুপস্থিত থাকায় শুনানি সম্ভব হয়নি। তবে মামলার জামিনে থাকা আসামিদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর আদালতে হাজির হননি। তিনি সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।” তবে কারাগারে থাকা অন্যান্য আসামিরা এবং জামিনে থাকা সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গৌছসহ মোট ১২ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। ওই ঘটনায় তাঁর ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলীও প্রাণ হারান। আহত হন অন্তত ৭০ জন। ঘটনার পর হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে সিআইডি ২০০৫ সালে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে ২০১১ সালে আসামির সংখ্যা বাড়িয়ে ২৬ জন এবং ২০১৪ সালের স¤পূরক অভিযোগপত্রে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ জনে। বর্তমানে মামলার ১৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ স¤পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাইবাজারে এক রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার শিকার হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় যুবলীগের একজন কর্মী নিহত হন এবং আহত হন আরও ২৯ জন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাক্ষীরা অনুপস্থিত : কিবরিয়া হত্যা ও সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাল

Update Time : ০৯:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলা এবং সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাক্ষীরা অনুপস্থিত থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিনে সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় বিচারক স্বপন কুমার সরকার আগামী ৩০ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে পৃথকভাবে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তবে নির্ধারিত ১৪ জন সাক্ষীর কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আদালত সূত্র জানায়, কিবরিয়া হত্যা মামলায় ৭ জন এবং সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলায় ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আবুল হোসেন বলেন, “সাক্ষীরা অনুপস্থিত থাকায় শুনানি সম্ভব হয়নি। তবে মামলার জামিনে থাকা আসামিদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর আদালতে হাজির হননি। তিনি সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।” তবে কারাগারে থাকা অন্যান্য আসামিরা এবং জামিনে থাকা সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গৌছসহ মোট ১২ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। ওই ঘটনায় তাঁর ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলীও প্রাণ হারান। আহত হন অন্তত ৭০ জন। ঘটনার পর হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে সিআইডি ২০০৫ সালে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে ২০১১ সালে আসামির সংখ্যা বাড়িয়ে ২৬ জন এবং ২০১৪ সালের স¤পূরক অভিযোগপত্রে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ জনে। বর্তমানে মামলার ১৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ স¤পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাইবাজারে এক রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার শিকার হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় যুবলীগের একজন কর্মী নিহত হন এবং আহত হন আরও ২৯ জন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।