বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করল অন্তর্বর্তী সরকার

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করল অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলটির রাজনীতি সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শনিবার রাতে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে গত দুই দিন ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

এনসিপি গঠনের শুরু থেকেই দলটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার বিচার দাবি করে আসছিল এবং এর দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, বুধবার মধ্যরাতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময়কার সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের থাইল্যান্ডে গমনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এরপর এনসিপি ও সমমনা সংগঠনগুলো ফের মাঠে নামে।

শনিবার রাতের বৈঠক শেষে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও মুখপাত্র অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম, সাইবার স্পেসসহ, সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, “দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।”

বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনীরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান আসিফ নজরুল। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন ও সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেও বিচারিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, “আজকের বৈঠকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করল অন্তর্বর্তী সরকার

Update Time : ১২:৩২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করল অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলটির রাজনীতি সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শনিবার রাতে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে গত দুই দিন ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

এনসিপি গঠনের শুরু থেকেই দলটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার বিচার দাবি করে আসছিল এবং এর দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, বুধবার মধ্যরাতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময়কার সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের থাইল্যান্ডে গমনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এরপর এনসিপি ও সমমনা সংগঠনগুলো ফের মাঠে নামে।

শনিবার রাতের বৈঠক শেষে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও মুখপাত্র অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম, সাইবার স্পেসসহ, সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, “দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।”

বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনীরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান আসিফ নজরুল। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন ও সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেও বিচারিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, “আজকের বৈঠকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।”