বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘন ঘন ক্ষুধা লাগলে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন

ন ঘন ক্ষুধা লাগলে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ক্ষুধার তীব্র আকাঙ্ক্ষাই অনেক সময় নীরব কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি সবচেয়ে সুশৃঙ্খল খাদ্য পরিকল্পনাও ভুল পথে চালিত হতে পারে যদি যখন-তখন ক্ষুধা লাগতে থাকে। হতে পারে তা সকালের মাঝামাঝি, দুপুরের খাবারের পরে অথবা গভীর রাতে। কিন্তু কী হবে যদি ক্ষুধা উপেক্ষা করার পরিবর্তে, আমরা এমন খাবার বেছে নিই, যেগুলো দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখলেও ওজন বাড়ায় না?

ফিটনেস কোচ ড্যান গো সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে কিছু পুষ্টিকর খাবারের তালিকা শেয়ার করেছেন যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ওজন কমাতে সহায়তা করে এবং টেকসই শক্তি বৃদ্ধি করে। এই খাবারগুলো কেবল তৃপ্তিই দেয় না বরং স্বাস্থ্যের জন্য চিত্তাকর্ষক সুবিধাও দিয়ে থাকে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক-

প্রতিদিন একটি আপেল খেলে তা কেবল ডাক্তারকেিই দূরে রাখে না, ক্ষুধাও দূরে রাখে। আপেলে প্রচুর পানি থাকে এবং পেকটিন নামক একটি বিশেষ ধরণের ফাইবার থাকে। এই দ্রবণীয় ফাইবার পেটে জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে, হজমকে ধীর করে দেয় এবং পেট ভরার অনুভূতি বাড়ায়।

আপেল চিবানোর ফলে মস্তিষ্কে তৃপ্তির অনুভূতি হয়, যা আপনাকে ক্ষুধার বিরুদ্ধে মানসিক এবং শারীরিকভাবেও সাহায্য করে। কম ক্যালোরি, উচ্চ ফাইবার এবং হাইড্রেশন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

ব্লুবেরি

আকারে ছোট হলেও ব্লুবেরির শক্তিশালী পুষ্টিকর প্রভাব রয়েছে। এই ফলে ফাইবার এবং পানি প্রচুর থাকে, যা ক্যালোরির বৃদ্ধি ছাড়াই খাবার এবং স্ন্যাকসকে সমৃদ্ধ করে তোলে।

ব্লুবেরির গ্লাইসেমিক সূচক কম থাকে, যার অর্থ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না। পরিবর্তে এটি ধীর, স্থির শক্তি প্রদান করে। এটি অ্যান্থোসায়ানিনও সমৃদ্ধ। অ্যান্থোসায়ানিন হলো এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা প্রদাহ কমাতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করে, যা উভয়ই ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে।

আলু

কম কার্ব ডায়েটে খলনায়ক হিসেবে বিবেচিত হয় আলু! অথচ এটি সেদ্ধ করে এবং পরিমিত খাওয়া হলে তা ক্ষুধা-প্রতিরোধে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। সেদ্ধ আলু স্যাটিটি ইনডেক্সের শীর্ষে রয়েছে, যা বিভিন্ন খাবার কতটা পেট ভরিয়ে দেয় তার একটি পরিমাপ।

প্রতি গ্রামে প্রতিরোধী স্টার্চ এবং পানির পরিমাণ বেশি এবং প্রতি গ্রামে কম ক্যালোরি থাকায়, আলু অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা হজমের স্বাস্থ্য উন্নত করে। রান্না এবং ঠান্ডা করলে আলুর প্রতিরোধী স্টার্চের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়, যা হজমকারী, পুষ্টিকর-ঘন কার্বোহাইড্রেট। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঘন ঘন ক্ষুধা লাগলে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন

Update Time : ০৯:১১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫

ন ঘন ক্ষুধা লাগলে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ক্ষুধার তীব্র আকাঙ্ক্ষাই অনেক সময় নীরব কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি সবচেয়ে সুশৃঙ্খল খাদ্য পরিকল্পনাও ভুল পথে চালিত হতে পারে যদি যখন-তখন ক্ষুধা লাগতে থাকে। হতে পারে তা সকালের মাঝামাঝি, দুপুরের খাবারের পরে অথবা গভীর রাতে। কিন্তু কী হবে যদি ক্ষুধা উপেক্ষা করার পরিবর্তে, আমরা এমন খাবার বেছে নিই, যেগুলো দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখলেও ওজন বাড়ায় না?

ফিটনেস কোচ ড্যান গো সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে কিছু পুষ্টিকর খাবারের তালিকা শেয়ার করেছেন যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ওজন কমাতে সহায়তা করে এবং টেকসই শক্তি বৃদ্ধি করে। এই খাবারগুলো কেবল তৃপ্তিই দেয় না বরং স্বাস্থ্যের জন্য চিত্তাকর্ষক সুবিধাও দিয়ে থাকে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক-

প্রতিদিন একটি আপেল খেলে তা কেবল ডাক্তারকেিই দূরে রাখে না, ক্ষুধাও দূরে রাখে। আপেলে প্রচুর পানি থাকে এবং পেকটিন নামক একটি বিশেষ ধরণের ফাইবার থাকে। এই দ্রবণীয় ফাইবার পেটে জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে, হজমকে ধীর করে দেয় এবং পেট ভরার অনুভূতি বাড়ায়।

আপেল চিবানোর ফলে মস্তিষ্কে তৃপ্তির অনুভূতি হয়, যা আপনাকে ক্ষুধার বিরুদ্ধে মানসিক এবং শারীরিকভাবেও সাহায্য করে। কম ক্যালোরি, উচ্চ ফাইবার এবং হাইড্রেশন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

ব্লুবেরি

আকারে ছোট হলেও ব্লুবেরির শক্তিশালী পুষ্টিকর প্রভাব রয়েছে। এই ফলে ফাইবার এবং পানি প্রচুর থাকে, যা ক্যালোরির বৃদ্ধি ছাড়াই খাবার এবং স্ন্যাকসকে সমৃদ্ধ করে তোলে।

ব্লুবেরির গ্লাইসেমিক সূচক কম থাকে, যার অর্থ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না। পরিবর্তে এটি ধীর, স্থির শক্তি প্রদান করে। এটি অ্যান্থোসায়ানিনও সমৃদ্ধ। অ্যান্থোসায়ানিন হলো এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা প্রদাহ কমাতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করে, যা উভয়ই ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে।

আলু

কম কার্ব ডায়েটে খলনায়ক হিসেবে বিবেচিত হয় আলু! অথচ এটি সেদ্ধ করে এবং পরিমিত খাওয়া হলে তা ক্ষুধা-প্রতিরোধে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। সেদ্ধ আলু স্যাটিটি ইনডেক্সের শীর্ষে রয়েছে, যা বিভিন্ন খাবার কতটা পেট ভরিয়ে দেয় তার একটি পরিমাপ।

প্রতি গ্রামে প্রতিরোধী স্টার্চ এবং পানির পরিমাণ বেশি এবং প্রতি গ্রামে কম ক্যালোরি থাকায়, আলু অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা হজমের স্বাস্থ্য উন্নত করে। রান্না এবং ঠান্ডা করলে আলুর প্রতিরোধী স্টার্চের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়, যা হজমকারী, পুষ্টিকর-ঘন কার্বোহাইড্রেট। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে।