বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটে রশি ফেলে ডাকাতি: ছিটকে পড়ে মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে ডাকাতদের বাঁধা রশির ফাঁদে পড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরো ২জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই যুবকের নাম সবুজ আহমদ (২১)। তিনি কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার উত্তর কলাবাড়ি গ্রামের মৃত মনিরুল ইসলাম (তোতা মিয়ার) ছেলে। এ ঘটনায় আহত অন্য দুইজন হচ্ছেন কলাবাড়ি গ্রামের নেছারুল্লাহর ছেলে মো. সুমন (২৩) ও বুড়দেও গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে মো. মাহদী (১৮)। মাহদীর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। আহত দুইজনকে সিলেটে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। স্বজনরা জানিয়েছেন-নিহত সবুজের পাড়ুয়া মিলেনিয়াম পাম্পের সামনে একটি দোকান ছিল। সে সেখানে কাজ করতো।

নিহত ও আহতদের পরিবার সূত্র জানায়, সবুজ আহমদ তার বন্ধু সুমনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে সন্ধ্যার পর সিলেটে গিয়েছিল। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাদের সাথে মাহদীও বাড়ি ফিরছিল। মোটরসাইকেলে করে তাদের ৩ জন কাঠাখাল ব্রিজ পার হয়ে কাঠাখাল দ্বিতীয় ব্রিজে আসামাত্র আগে থেকে ডাকাতদের ফাঁদ পাতা রশিতে বাঁধা পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এসময় ব্রিজের দু-পাশে বাঁধা রশি মোটরসাইকেল চালক সবুজের গলায় আটকা পড়লে তিন জনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন। মাথায় গুরুত্বর আঘাত প্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান সবুজ। তার সাথে থাকা অন্য দুইজন গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের হাইটেক পার্ক থেকে কোম্পানীগঞ্জ হাবির দোকান এলাকা পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এই এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ করতে রাতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম ডিউটি পালন করেন। পুলিশের ডিউটি থাকা কালে ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হাইটেক পার্ক এলাকায় ডিউটি করছিলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সঙ্গীয় ফোর্স। ওই দিন রাত ১টার দিকে তারা হাইটেক পার্কের সামনে চেকপোস্টের ডিউটি করছিলেন। এমন সময় তাদের ৫শ’ গজ দূরত্বে থাকা কাঠাখাল ব্রিজে ডাকাতরা রশি বেঁধে ডাকাতির ফাঁদ পাতে। পুলিশের চেকপোস্ট পাড়ি দিয়ে এই ফাঁদে পড়ে মারা যান সবুজ। এর আগে, গত ১০ জুলাই রাত ১২টায় একই স্থানে ডাকাতদের রশিদ ফাঁদে পড়েন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সিএ মিজানুল কবির। এসময় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার সাথে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায় ডাকাতরা। তাৎক্ষণিক তিনি পুলিশকে অবগত করলেও এখন পর্যন্ত ডাকাতদের সনাক্ত বা মোবাইল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানান, ‘সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে আমাদের ২টি টহল টিম ছিল। ডাকাতরা খুবই সতর্কতার সহিত সুযোগ বুঝে এই কাজটি করে। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এর সাথে কারা জড়িত তাদের বের করার চেষ্টা করছি। নিহত সবুজের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করবে বলে জানিয়েছে। আমরাও আমাদের আইনি কার্যক্রম অব্যহত রেখেছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিলেটে রশি ফেলে ডাকাতি: ছিটকে পড়ে মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

Update Time : ০৭:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে ডাকাতদের বাঁধা রশির ফাঁদে পড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরো ২জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই যুবকের নাম সবুজ আহমদ (২১)। তিনি কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার উত্তর কলাবাড়ি গ্রামের মৃত মনিরুল ইসলাম (তোতা মিয়ার) ছেলে। এ ঘটনায় আহত অন্য দুইজন হচ্ছেন কলাবাড়ি গ্রামের নেছারুল্লাহর ছেলে মো. সুমন (২৩) ও বুড়দেও গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে মো. মাহদী (১৮)। মাহদীর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। আহত দুইজনকে সিলেটে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। স্বজনরা জানিয়েছেন-নিহত সবুজের পাড়ুয়া মিলেনিয়াম পাম্পের সামনে একটি দোকান ছিল। সে সেখানে কাজ করতো।

নিহত ও আহতদের পরিবার সূত্র জানায়, সবুজ আহমদ তার বন্ধু সুমনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে সন্ধ্যার পর সিলেটে গিয়েছিল। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাদের সাথে মাহদীও বাড়ি ফিরছিল। মোটরসাইকেলে করে তাদের ৩ জন কাঠাখাল ব্রিজ পার হয়ে কাঠাখাল দ্বিতীয় ব্রিজে আসামাত্র আগে থেকে ডাকাতদের ফাঁদ পাতা রশিতে বাঁধা পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এসময় ব্রিজের দু-পাশে বাঁধা রশি মোটরসাইকেল চালক সবুজের গলায় আটকা পড়লে তিন জনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন। মাথায় গুরুত্বর আঘাত প্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান সবুজ। তার সাথে থাকা অন্য দুইজন গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের হাইটেক পার্ক থেকে কোম্পানীগঞ্জ হাবির দোকান এলাকা পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এই এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ করতে রাতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম ডিউটি পালন করেন। পুলিশের ডিউটি থাকা কালে ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হাইটেক পার্ক এলাকায় ডিউটি করছিলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সঙ্গীয় ফোর্স। ওই দিন রাত ১টার দিকে তারা হাইটেক পার্কের সামনে চেকপোস্টের ডিউটি করছিলেন। এমন সময় তাদের ৫শ’ গজ দূরত্বে থাকা কাঠাখাল ব্রিজে ডাকাতরা রশি বেঁধে ডাকাতির ফাঁদ পাতে। পুলিশের চেকপোস্ট পাড়ি দিয়ে এই ফাঁদে পড়ে মারা যান সবুজ। এর আগে, গত ১০ জুলাই রাত ১২টায় একই স্থানে ডাকাতদের রশিদ ফাঁদে পড়েন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সিএ মিজানুল কবির। এসময় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার সাথে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায় ডাকাতরা। তাৎক্ষণিক তিনি পুলিশকে অবগত করলেও এখন পর্যন্ত ডাকাতদের সনাক্ত বা মোবাইল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানান, ‘সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে আমাদের ২টি টহল টিম ছিল। ডাকাতরা খুবই সতর্কতার সহিত সুযোগ বুঝে এই কাজটি করে। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এর সাথে কারা জড়িত তাদের বের করার চেষ্টা করছি। নিহত সবুজের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করবে বলে জানিয়েছে। আমরাও আমাদের আইনি কার্যক্রম অব্যহত রেখেছি।’