বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাইযোদ্ধাদের ফ্ল্যাট ও চাকরিতে কোটা থাকছে না: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা বা ফ্ল্যাট দেওয়ার বিষয় থাকছে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, বীর প্রতীক।

সোমবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।জুলাই যোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারকে সরকারিভাবে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে এবং সরকারি চাকরিতে কোটা বরাদ্দ করা হবে, এটি সঠিক তথ্য কি-না, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুসারে মন্ত্রণালয় যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এই কার্যক্রমের মধ্যে ফ্ল্যাট দেওয়া কিংবা চাকরির কোটা দেওয়া এসব বিষয় নেই। পুনর্বাসন কর্মসূচি আছে। পুনর্বাসন নানানভাবে হতে পারে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী তিনি যেভাবে পুনর্বাসিত হতে চান সেভাবে করা হবে। আত্মকর্মসংস্থানের জন্য যদি হাস-মুরগি কিংবা পশুপালন, মৎস্য পালন যেভাবে তিনি জীবিকা সংস্থান করতে চাইবেন সে ধরনের সুবিধাদি সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হবে।’জুলাই যোদ্ধাদের সরকার অনুদান দেবে সেটা স্বাভাবিক, তাদের আত্মত্যাগ রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারাও এখন ভাতা পাচ্ছেন ২০ হাজার টাকা, জুলাই যোদ্ধারাও পাচ্ছেন ২০ হাজার টাকা। দুটো কি সমান হয়ে গেল কি-না, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা কি বাড়ানো হবে? – এ প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের প্রসঙ্গটা এখানে না আসাই উচিত। মুক্তিযোদ্ধারা মহান। তাদের অবদান এটা অনস্বীকার্য। এটা সর্বজনীনভাবে প্রযোজ্য। এটা এখানে এই প্রসঙ্গে নিয়ে আসা উচিত না।

’জুলাই যোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সমকক্ষ করা হচ্ছে কি-না? – এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ওইভাবে (সমকক্ষ) কেউ দেখছে না। আমরাও দেখছি না। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা পেতে ৩০-৩৫ বছর লেগেছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধারা তো ভাতাই পায়নি, তালিকাই হয়নি। অথচ ২০০৫ সালেই শহিদের তালিকা হয়েছে। এগুলো সব রেকর্ডেড। তাহলে এত বছর ধরে হলো না কেন? আমি মুক্তিযোদ্ধার প্রসঙ্গ এখানে আনতে চাচ্ছি না।’সরকারি চাকরিতে তাদের জন্য কোনো কোটা থাকবে কি না – এই প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, ‘না না। কোনো কোটা থাকবে না। তারা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাবেন।’জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের জুলাই শহিদ এবং আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে সরকার ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর মাধ্যমে স্বীকৃতি দিয়েছে বলেও জানান তিনি।মুক্তিযুদ্ধ উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী ১৫ জানুয়ারি ৮৩৪ জন এবং ৩০ জুন আরও ১০ জন সর্বমোট ৮৪৪ জন শহিদের তালিকা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেট আকারে প্রকাশ করে।

তিনি বলেন, আহত হওয়ার ধরণ অনুসারে জুলাই যোদ্ধাদের তিনটি শ্রেণিভুক্ত করে ২৭ ফেব্রুয়ারি ৪৯৩ জন জুলাই যোদ্ধাকে ‘ক’ শ্রেণিতে, ৯০৮ জনকে ‘খ’ শ্রেণিতে এবং ৪ এবং ৫ মার্চ ১ হাজার ৬৪২ জনকে ‘গ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জুলাইযোদ্ধাদের ফ্ল্যাট ও চাকরিতে কোটা থাকছে না: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা

Update Time : ১১:৪৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা বা ফ্ল্যাট দেওয়ার বিষয় থাকছে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, বীর প্রতীক।

সোমবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।জুলাই যোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারকে সরকারিভাবে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে এবং সরকারি চাকরিতে কোটা বরাদ্দ করা হবে, এটি সঠিক তথ্য কি-না, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুসারে মন্ত্রণালয় যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এই কার্যক্রমের মধ্যে ফ্ল্যাট দেওয়া কিংবা চাকরির কোটা দেওয়া এসব বিষয় নেই। পুনর্বাসন কর্মসূচি আছে। পুনর্বাসন নানানভাবে হতে পারে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী তিনি যেভাবে পুনর্বাসিত হতে চান সেভাবে করা হবে। আত্মকর্মসংস্থানের জন্য যদি হাস-মুরগি কিংবা পশুপালন, মৎস্য পালন যেভাবে তিনি জীবিকা সংস্থান করতে চাইবেন সে ধরনের সুবিধাদি সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হবে।’জুলাই যোদ্ধাদের সরকার অনুদান দেবে সেটা স্বাভাবিক, তাদের আত্মত্যাগ রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারাও এখন ভাতা পাচ্ছেন ২০ হাজার টাকা, জুলাই যোদ্ধারাও পাচ্ছেন ২০ হাজার টাকা। দুটো কি সমান হয়ে গেল কি-না, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা কি বাড়ানো হবে? – এ প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের প্রসঙ্গটা এখানে না আসাই উচিত। মুক্তিযোদ্ধারা মহান। তাদের অবদান এটা অনস্বীকার্য। এটা সর্বজনীনভাবে প্রযোজ্য। এটা এখানে এই প্রসঙ্গে নিয়ে আসা উচিত না।

’জুলাই যোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সমকক্ষ করা হচ্ছে কি-না? – এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ওইভাবে (সমকক্ষ) কেউ দেখছে না। আমরাও দেখছি না। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা পেতে ৩০-৩৫ বছর লেগেছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধারা তো ভাতাই পায়নি, তালিকাই হয়নি। অথচ ২০০৫ সালেই শহিদের তালিকা হয়েছে। এগুলো সব রেকর্ডেড। তাহলে এত বছর ধরে হলো না কেন? আমি মুক্তিযোদ্ধার প্রসঙ্গ এখানে আনতে চাচ্ছি না।’সরকারি চাকরিতে তাদের জন্য কোনো কোটা থাকবে কি না – এই প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, ‘না না। কোনো কোটা থাকবে না। তারা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাবেন।’জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের জুলাই শহিদ এবং আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে সরকার ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর মাধ্যমে স্বীকৃতি দিয়েছে বলেও জানান তিনি।মুক্তিযুদ্ধ উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী ১৫ জানুয়ারি ৮৩৪ জন এবং ৩০ জুন আরও ১০ জন সর্বমোট ৮৪৪ জন শহিদের তালিকা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেট আকারে প্রকাশ করে।

তিনি বলেন, আহত হওয়ার ধরণ অনুসারে জুলাই যোদ্ধাদের তিনটি শ্রেণিভুক্ত করে ২৭ ফেব্রুয়ারি ৪৯৩ জন জুলাই যোদ্ধাকে ‘ক’ শ্রেণিতে, ৯০৮ জনকে ‘খ’ শ্রেণিতে এবং ৪ এবং ৫ মার্চ ১ হাজার ৬৪২ জনকে ‘গ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।