বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোল্ডেন ফাইভ নয়, চাই প্রকৃত শিক্ষা- সুনামগঞ্জে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা

গে নির্দেশ থাকতো, নির্দিষ্ট নম্বরের কম দেয়া যাবে না। তাই দেখা যেতো-প্রায় সবাই জিপিএ-৫ কিংবা গোল্ডেন ফাইভ পেয়ে যাচ্ছে। অথচ অনেকেই রিডিং পড়তেও পারে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে-এটাই কি আমাদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা?” এমন প্রশ্ন রেখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৯৪ শতাংশ ফেল করেছে-এটাই প্রমাণ করছে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোথাও বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি।”

রবিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন,“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার প্রশ্ন ফাঁস হয়নি, তাই কেউ উত্তর মুখস্থ করে পাস করতে পারেনি। যারা নিচের ক্লাসে শেখেনি, তাদের এই ফলাফলই প্রমাণ করে-আমাদের শিক্ষা সার্টিফিকেট মুখস্থের চর্চা থেকে বেরিয়ে প্রকৃত জ্ঞানভিত্তিক হতে হবে। অভিভাবক হিসেবে আমরা চাই, সন্তান সত্যিকার অর্থে শেখুক, মুখস্থ করে না।”

তিনি আরও জানান, “স্কুলে শিক্ষক সংকট দূর করতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা চলছে। নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিতে মুদ্রণকাজ জোরদার করা হয়েছে, জানুয়ারির শুরুতেই সবাই বই পাবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার দ্বিধান্বিতা দেবী। স্বাগত বক্তব্যে হাওরাঞ্চলের শিক্ষার চ্যালেঞ্জ ও সমাধান নিয়ে উপস্থাপনা দেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) এ.কে. মোহাম্মদ সামছুল আহসান, পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদ, সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম প্রমুখ।

শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদিন, আর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কথা বলে দোয়ারাবাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহজবিন তালুকদার রাইফা। পরে কৃতী শিক্ষার্থী, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর জেলা প্রশাসন মেধা বৃত্তিতে সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলার ১ হাজার ৪৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ৫৯ হাজার শিক্ষার্থী ‘মেধা যাচাই পরীক্ষা ২০২৫’-এ অংশ নেয়। ৩০৪টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিল ৮৭.০৬ শতাংশ। এ পরীক্ষার ফলাফলে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ২১টি, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ২০ জন, পঞ্চম শ্রেণিতে ৫৭ জন ও চতুর্থ শ্রেণিতে ৪৮ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি অর্জন করে।

এর আগে সকালে সুনামগঞ্জ পিটিআই মিলনায়তনে “প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অংশীজনের ভূমিকা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায়ও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল এবং সঞ্চালনা করেন হবতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমনা তালুকদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) এ.কে. মোহাম্মদ শামসুল আহসান, সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট দীপঙ্কর মোহন্ত ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ খালেদুল ইসলাম প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোল্ডেন ফাইভ নয়, চাই প্রকৃত শিক্ষা- সুনামগঞ্জে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা

Update Time : ০৮:০৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

গে নির্দেশ থাকতো, নির্দিষ্ট নম্বরের কম দেয়া যাবে না। তাই দেখা যেতো-প্রায় সবাই জিপিএ-৫ কিংবা গোল্ডেন ফাইভ পেয়ে যাচ্ছে। অথচ অনেকেই রিডিং পড়তেও পারে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে-এটাই কি আমাদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা?” এমন প্রশ্ন রেখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৯৪ শতাংশ ফেল করেছে-এটাই প্রমাণ করছে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোথাও বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি।”

রবিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন,“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার প্রশ্ন ফাঁস হয়নি, তাই কেউ উত্তর মুখস্থ করে পাস করতে পারেনি। যারা নিচের ক্লাসে শেখেনি, তাদের এই ফলাফলই প্রমাণ করে-আমাদের শিক্ষা সার্টিফিকেট মুখস্থের চর্চা থেকে বেরিয়ে প্রকৃত জ্ঞানভিত্তিক হতে হবে। অভিভাবক হিসেবে আমরা চাই, সন্তান সত্যিকার অর্থে শেখুক, মুখস্থ করে না।”

তিনি আরও জানান, “স্কুলে শিক্ষক সংকট দূর করতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা চলছে। নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিতে মুদ্রণকাজ জোরদার করা হয়েছে, জানুয়ারির শুরুতেই সবাই বই পাবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার দ্বিধান্বিতা দেবী। স্বাগত বক্তব্যে হাওরাঞ্চলের শিক্ষার চ্যালেঞ্জ ও সমাধান নিয়ে উপস্থাপনা দেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) এ.কে. মোহাম্মদ সামছুল আহসান, পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদ, সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম প্রমুখ।

শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদিন, আর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কথা বলে দোয়ারাবাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহজবিন তালুকদার রাইফা। পরে কৃতী শিক্ষার্থী, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর জেলা প্রশাসন মেধা বৃত্তিতে সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলার ১ হাজার ৪৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ৫৯ হাজার শিক্ষার্থী ‘মেধা যাচাই পরীক্ষা ২০২৫’-এ অংশ নেয়। ৩০৪টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিল ৮৭.০৬ শতাংশ। এ পরীক্ষার ফলাফলে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ২১টি, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ২০ জন, পঞ্চম শ্রেণিতে ৫৭ জন ও চতুর্থ শ্রেণিতে ৪৮ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি অর্জন করে।

এর আগে সকালে সুনামগঞ্জ পিটিআই মিলনায়তনে “প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অংশীজনের ভূমিকা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায়ও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল এবং সঞ্চালনা করেন হবতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমনা তালুকদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) এ.কে. মোহাম্মদ শামসুল আহসান, সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট দীপঙ্কর মোহন্ত ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ খালেদুল ইসলাম প্রমুখ।