শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিরাই বিএনপির কমিটিতে বিতর্কিতদের পদ-পাওয়ার দৌড়ঝাঁপ

প্রায় ১০ বছর পর দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেতে ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি বিতর্কিত ও সুবিধাবাদী ব্যক্তিরাও সক্রিয় হয়েছেন। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে ধরনা দিয়ে, নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠায় নানাভাবে চেষ্টা করছেন তারা।

সবশেষ ২০১৪ সালে দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটিতে প্রায় সবাই ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন। তবে গত এক দশকে দিরাই বিএনপির অভ্যন্তরে বড় পরিবর্তন এসেছে। দলীয় দুর্দিনে অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বলয় সক্রিয় ছিল, অন্যদিকে সাবেক বিচারপতি মিফতাহ্ উদ্দিন চৌধুরী রুমির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে আরেকটি বলয়।

এখন পর্যন্ত দিরাই উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক পদে তিনজনের নাম আলোচনায় রয়েছে যাদের মধ্যে আব্দুর রশিদ চৌধুরী. উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আব্দুল কাইয়ুম একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা, রশিদ আহমদ বাচ্চু উপজেলা সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি, যিনি ২০১২ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন তবে এখন আবার বিএনপিতে লবিং শুরু করেছেন।

এছাড়া পৌর কমিটির আহ্বায়ক পদেও কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। যাদের মধ্যে আমিরুল ইসলাম, যিনি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বলয়ের নেতা, এডভোকেট ইকবাল চৌধুরী সাবেক ছাত্রনেতা, বাবুল মিয়া যিনি বিএনপি নেতা তাহির রায়হান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

বিএনপির স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, হাইব্রিড নেতারা এবং আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীরা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে মরিয়া। এক নেতা বলেন, “যারা অতীতে দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিল, তাদের দলে পুনর্বাসন করা উচিত নয়। জেলা কমিটির উচিত খোঁজখবর নিয়ে ত্যাগী নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা।”

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, “দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতেই নতুন কমিটি গঠন করা উচিত। বিতর্কিত বা সুবিধাবাদীদের অন্তর্ভুক্তি দলের জন্য ক্ষতিকর হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দিরাই বিএনপির কমিটিতে বিতর্কিতদের পদ-পাওয়ার দৌড়ঝাঁপ

Update Time : ০২:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৪

প্রায় ১০ বছর পর দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেতে ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি বিতর্কিত ও সুবিধাবাদী ব্যক্তিরাও সক্রিয় হয়েছেন। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে ধরনা দিয়ে, নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠায় নানাভাবে চেষ্টা করছেন তারা।

সবশেষ ২০১৪ সালে দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটিতে প্রায় সবাই ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন। তবে গত এক দশকে দিরাই বিএনপির অভ্যন্তরে বড় পরিবর্তন এসেছে। দলীয় দুর্দিনে অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বলয় সক্রিয় ছিল, অন্যদিকে সাবেক বিচারপতি মিফতাহ্ উদ্দিন চৌধুরী রুমির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে আরেকটি বলয়।

এখন পর্যন্ত দিরাই উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক পদে তিনজনের নাম আলোচনায় রয়েছে যাদের মধ্যে আব্দুর রশিদ চৌধুরী. উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আব্দুল কাইয়ুম একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা, রশিদ আহমদ বাচ্চু উপজেলা সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি, যিনি ২০১২ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন তবে এখন আবার বিএনপিতে লবিং শুরু করেছেন।

এছাড়া পৌর কমিটির আহ্বায়ক পদেও কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। যাদের মধ্যে আমিরুল ইসলাম, যিনি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বলয়ের নেতা, এডভোকেট ইকবাল চৌধুরী সাবেক ছাত্রনেতা, বাবুল মিয়া যিনি বিএনপি নেতা তাহির রায়হান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

বিএনপির স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, হাইব্রিড নেতারা এবং আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীরা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে মরিয়া। এক নেতা বলেন, “যারা অতীতে দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিল, তাদের দলে পুনর্বাসন করা উচিত নয়। জেলা কমিটির উচিত খোঁজখবর নিয়ে ত্যাগী নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা।”

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, “দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতেই নতুন কমিটি গঠন করা উচিত। বিতর্কিত বা সুবিধাবাদীদের অন্তর্ভুক্তি দলের জন্য ক্ষতিকর হবে।”