শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে বিএনপির কমিটিতে পদপ্রত্যাশী ৪০ ছাত্রদল নেতা

সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলা ও চার পৌরসভায় বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩ ইউনিটের আহ্বায়ক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আগ্রহী প্রায় তিন শতাধিক নেতা জেলা বিএনপির দপ্তরে ফরম জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রদলের সাবেক সক্রিয় ৪০ নেতাও রয়েছেন, যারা বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষ্যে পদপ্রার্থী হয়েছেন।

ছাত্রদলের সাবেক এ নেতারা দলের দুঃসময়ে নিষ্ক্রিয় না হয়ে বিএনপির পাশে ছিলেন এবং বর্তমানে উপজেলা ও পৌর ইউনিটের বিভিন্ন পদে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

পদপ্রার্থীদের পরিচিতি
সুনামগঞ্জ সদর ও পৌরসভা ইউনিটে রেজাউল হক, আব্দুল্লা আল নোমান, জুয়েল মিয়া, মোর্শেদ আলমসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রদলের সাবেক নেতা পদপ্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া বিশ্বম্ভরপুরে আশিকুর রহমান, তাহিরপুরে কামরুজ্জামান কামরুল ও মেহেদী হাসান উজ্জ্বলসহ অন্যরা ফরম জমা দিয়েছেন।

জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দিরাই, শাল্লা, এবং মধ্যনগরসহ প্রায় সব ইউনিটেই সাবেক ছাত্রদল নেতারা পদপ্রত্যাশী। এদের মধ্যে কেউ পৌর ইউনিটের আহ্বায়ক পদে, আবার কেউ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী।

সাবেক ছাত্রদল নেতাদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা
১৯৯৪ সালে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জুয়েল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। বিএনপির কঠিন সময়ে দলের জন্য কাজ করেছি। দায়িত্ব পেলে পৌর ইউনিটকে গোছানোর জন্য কাজ করবো।”

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লা আল নোমান জানান, “ছাত্রদলের রাজনীতির পর বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থেকেছি। দায়িত্ব পেলে পৌর এলাকায় বিএনপিকে শক্তিশালী করবো।”

জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নাদীর আহমদ বলেন, “দলের জন্য সংগ্রাম করা কর্মীদের মূল্যায়ন করা উচিত। যারা দুঃসময়ে দলের সঙ্গে ছিলেন, তারা নেতৃত্বের জন্য যোগ্য।”

কমিটি গঠনে নেতাদের মতামত
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, “ছাত্রদলের সাবেক হলেই হবে না। যারা বিএনপির দুঃসময়ে লড়াই সংগ্রামে ছিলেন এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের নিপীড়ন সহ্য করেছেন, তাদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।”

সুনামগঞ্জের প্রতিটি ইউনিটে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়। নেতারা আশা করছেন, দলের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের আনুগত্য এবং ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সুনামগঞ্জে বিএনপির কমিটিতে পদপ্রত্যাশী ৪০ ছাত্রদল নেতা

Update Time : ০৬:১২:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪

সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলা ও চার পৌরসভায় বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩ ইউনিটের আহ্বায়ক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আগ্রহী প্রায় তিন শতাধিক নেতা জেলা বিএনপির দপ্তরে ফরম জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রদলের সাবেক সক্রিয় ৪০ নেতাও রয়েছেন, যারা বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষ্যে পদপ্রার্থী হয়েছেন।

ছাত্রদলের সাবেক এ নেতারা দলের দুঃসময়ে নিষ্ক্রিয় না হয়ে বিএনপির পাশে ছিলেন এবং বর্তমানে উপজেলা ও পৌর ইউনিটের বিভিন্ন পদে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

পদপ্রার্থীদের পরিচিতি
সুনামগঞ্জ সদর ও পৌরসভা ইউনিটে রেজাউল হক, আব্দুল্লা আল নোমান, জুয়েল মিয়া, মোর্শেদ আলমসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রদলের সাবেক নেতা পদপ্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া বিশ্বম্ভরপুরে আশিকুর রহমান, তাহিরপুরে কামরুজ্জামান কামরুল ও মেহেদী হাসান উজ্জ্বলসহ অন্যরা ফরম জমা দিয়েছেন।

জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দিরাই, শাল্লা, এবং মধ্যনগরসহ প্রায় সব ইউনিটেই সাবেক ছাত্রদল নেতারা পদপ্রত্যাশী। এদের মধ্যে কেউ পৌর ইউনিটের আহ্বায়ক পদে, আবার কেউ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী।

সাবেক ছাত্রদল নেতাদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা
১৯৯৪ সালে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জুয়েল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। বিএনপির কঠিন সময়ে দলের জন্য কাজ করেছি। দায়িত্ব পেলে পৌর ইউনিটকে গোছানোর জন্য কাজ করবো।”

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লা আল নোমান জানান, “ছাত্রদলের রাজনীতির পর বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থেকেছি। দায়িত্ব পেলে পৌর এলাকায় বিএনপিকে শক্তিশালী করবো।”

জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নাদীর আহমদ বলেন, “দলের জন্য সংগ্রাম করা কর্মীদের মূল্যায়ন করা উচিত। যারা দুঃসময়ে দলের সঙ্গে ছিলেন, তারা নেতৃত্বের জন্য যোগ্য।”

কমিটি গঠনে নেতাদের মতামত
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, “ছাত্রদলের সাবেক হলেই হবে না। যারা বিএনপির দুঃসময়ে লড়াই সংগ্রামে ছিলেন এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের নিপীড়ন সহ্য করেছেন, তাদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।”

সুনামগঞ্জের প্রতিটি ইউনিটে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়। নেতারা আশা করছেন, দলের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের আনুগত্য এবং ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।