শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী হত্যা মামলার আসামীকে থানায় সোপর্দের ঘটনা ‘অভিযান’ বলে প্রচার

 

জগন্নাথপুরে স্ত্রীকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত শান্তিগঞ্জ উপজেলার আক্তাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেনকে তার পরিবারের সদস্যরা থানায় সোপর্দ করলেও পুলিশ গণমাধ্যমে বিষয়টিকে ‘অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার’ বলে উল্লেখ করেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের আইন মানার উদ্যোগ আড়ালে থেকে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

আমজাদ হোসেনের বাবা মোখলিছ মিয়া জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুর উপজেলার ইসমাইলপুর গ্রামে বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন স্ত্রীকে মারধরের পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এরপর আমজাদ পালিয়ে যান।

মোখলিছ মিয়া বলেন, “আমাকে পুলিশ আটক করেছিল, পরে আত্মীয়স্বজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার বিস্তারিত জেনে আমজাদকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমার অপর দুই ছেলের সহযোগিতায় আমজাদকে খুঁজে বের করে দরগাপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সুরুজ আলী, শালিস ব্যক্তিত্ব আবদুর রশিদ এবং আমার মেয়ের জামাইয়ের সহায়তায় থানায় নিয়ে যাই।”

আবদুর রশিদ জানান, তারা তিনজন মিলে আমজাদকে থানায় নিয়ে যান। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ এবং ওসি রুহুল আমীন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে আপ্যায়ন করেন। তবে, পুলিশ গণমাধ্যমে জানিয়েছে, তেলিকোনায় অভিযান চালিয়ে আমজাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মিনাবাজারের ব্যবসায়ী শামসুদ্দিন সুনু বলেন, “আমরা আমজাদকে আত্মসমর্পণে রাজি করিয়েছি। কিন্তু পুলিশের এই দাবি দেখে হতাশ হয়েছি। মোখলিছ মিয়া যেভাবে আইন মানার উদাহরণ সৃষ্টি করলেন, তা আর স্বীকৃতি পেল না।”

এসআই আবদুল্লাহ দাবি করেন, তারা তেলিকোনায় অভিযান চালিয়ে আসামীকে গ্রেফতার করেছেন। তবে ওসি রুহুল আমীন বলেন, “পরিবারের লোকজন তাকে থানায় সোপর্দ করেছে বলে দাবি করলেও আমরা অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছি। এজহার বা চার্জশিটে বিষয়টি উল্লেখ করা হবে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এ ধরনের আচরণ আইন মানার সংস্কৃতিকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

স্ত্রী হত্যা মামলার আসামীকে থানায় সোপর্দের ঘটনা ‘অভিযান’ বলে প্রচার

Update Time : ০৬:১৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫

 

জগন্নাথপুরে স্ত্রীকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত শান্তিগঞ্জ উপজেলার আক্তাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেনকে তার পরিবারের সদস্যরা থানায় সোপর্দ করলেও পুলিশ গণমাধ্যমে বিষয়টিকে ‘অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার’ বলে উল্লেখ করেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের আইন মানার উদ্যোগ আড়ালে থেকে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

আমজাদ হোসেনের বাবা মোখলিছ মিয়া জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুর উপজেলার ইসমাইলপুর গ্রামে বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন স্ত্রীকে মারধরের পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এরপর আমজাদ পালিয়ে যান।

মোখলিছ মিয়া বলেন, “আমাকে পুলিশ আটক করেছিল, পরে আত্মীয়স্বজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার বিস্তারিত জেনে আমজাদকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমার অপর দুই ছেলের সহযোগিতায় আমজাদকে খুঁজে বের করে দরগাপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সুরুজ আলী, শালিস ব্যক্তিত্ব আবদুর রশিদ এবং আমার মেয়ের জামাইয়ের সহায়তায় থানায় নিয়ে যাই।”

আবদুর রশিদ জানান, তারা তিনজন মিলে আমজাদকে থানায় নিয়ে যান। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ এবং ওসি রুহুল আমীন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে আপ্যায়ন করেন। তবে, পুলিশ গণমাধ্যমে জানিয়েছে, তেলিকোনায় অভিযান চালিয়ে আমজাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মিনাবাজারের ব্যবসায়ী শামসুদ্দিন সুনু বলেন, “আমরা আমজাদকে আত্মসমর্পণে রাজি করিয়েছি। কিন্তু পুলিশের এই দাবি দেখে হতাশ হয়েছি। মোখলিছ মিয়া যেভাবে আইন মানার উদাহরণ সৃষ্টি করলেন, তা আর স্বীকৃতি পেল না।”

এসআই আবদুল্লাহ দাবি করেন, তারা তেলিকোনায় অভিযান চালিয়ে আসামীকে গ্রেফতার করেছেন। তবে ওসি রুহুল আমীন বলেন, “পরিবারের লোকজন তাকে থানায় সোপর্দ করেছে বলে দাবি করলেও আমরা অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছি। এজহার বা চার্জশিটে বিষয়টি উল্লেখ করা হবে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এ ধরনের আচরণ আইন মানার সংস্কৃতিকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।