শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ ঢিমেতালে , সাইনবোর্ড নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বেশিরভাগ প্রকল্পে এখনো মাটি ফেলার কাজ শুরু হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী কাজ শুরুর আগে প্রাক্কলিত ব্যয় ও ওয়ার্ক অর্ডারসহ সাইনবোর্ড বাঁধ এলাকায় স্থাপন করার কথা থাকলেও বেশিরভাগ উপজেলায় সেগুলো শহরের দোকান বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

সাইনবোর্ড সরবরাহে অনিয়ম

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাইনবোর্ড সরবরাহের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শহর থেকে কম খরচে সাইনবোর্ড তৈরি করে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ব্যয় দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শান্তিগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাইসহ প্রায় সব উপজেলায় পাউবো কর্মকর্তারা নিজেরা সাইনবোর্ড সরবরাহ করছেন। এ জন্য পিআইসি সদস্যদের কাছ থেকে প্রতিটি সাইনবোর্ডের জন্য ৪-৫ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পিআইসির সদস্যদের অভিযোগ

শান্তিগঞ্জ উপজেলার খাই হাওর উপ-প্রকল্পের এক পিআইসির সভাপতি জানান, সংশ্লিষ্ট এসও (সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার) সাইনবোর্ড সরবরাহ করছেন এবং এর জন্য ৫ হাজার টাকা নিচ্ছেন। তাহিরপুর উপজেলার এক পিআইসির সাধারণ সম্পাদক জানান, “এসও সাহেবরা শহর থেকে সাইনবোর্ড তৈরি করে এনে অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে টাকা নিচ্ছেন। তবে এখনো আমাদের সাইনবোর্ড দেয়া হয়নি।”

পাউবো কর্মকর্তাদের বক্তব্য

পানি উন্নয়ন বোর্ডের শান্তিগঞ্জ শাখার কর্মকর্তা মো. মমিন মিয়া বলেন, “আমরা পিআইসিদের সাইনবোর্ড সরবরাহ করছি। এ জন্য সামান্য কিছু টাকা নিচ্ছি।” তাহিরপুর শাখার কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, “সাইনবোর্ড তৈরি করার দায়িত্ব পিআইসিদের। তবে তারা না করায় আমরা নিজেরা সরবরাহ করছি। এবার ৭৬টি পিআইসির জন্য সাইনবোর্ড অর্ডার দেয়া হয়েছে, যা শিগগিরই সরবরাহ করা হবে।”

নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিক্রিয়া

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “এই বিষয়ে পরে বিস্তারিত কথা বলব,” উল্লেখ করে তিনি ফোন কেটে দেন।

প্রকল্পের কাজে ধীরগতি

প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ করতে না পারার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দাবি করেছেন, অনিয়ম বন্ধ করে দ্রুত ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করা হোক।

 

4o
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ ঢিমেতালে , সাইনবোর্ড নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

Update Time : ০৪:৪৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বেশিরভাগ প্রকল্পে এখনো মাটি ফেলার কাজ শুরু হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী কাজ শুরুর আগে প্রাক্কলিত ব্যয় ও ওয়ার্ক অর্ডারসহ সাইনবোর্ড বাঁধ এলাকায় স্থাপন করার কথা থাকলেও বেশিরভাগ উপজেলায় সেগুলো শহরের দোকান বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

সাইনবোর্ড সরবরাহে অনিয়ম

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাইনবোর্ড সরবরাহের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শহর থেকে কম খরচে সাইনবোর্ড তৈরি করে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ব্যয় দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শান্তিগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাইসহ প্রায় সব উপজেলায় পাউবো কর্মকর্তারা নিজেরা সাইনবোর্ড সরবরাহ করছেন। এ জন্য পিআইসি সদস্যদের কাছ থেকে প্রতিটি সাইনবোর্ডের জন্য ৪-৫ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পিআইসির সদস্যদের অভিযোগ

শান্তিগঞ্জ উপজেলার খাই হাওর উপ-প্রকল্পের এক পিআইসির সভাপতি জানান, সংশ্লিষ্ট এসও (সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার) সাইনবোর্ড সরবরাহ করছেন এবং এর জন্য ৫ হাজার টাকা নিচ্ছেন। তাহিরপুর উপজেলার এক পিআইসির সাধারণ সম্পাদক জানান, “এসও সাহেবরা শহর থেকে সাইনবোর্ড তৈরি করে এনে অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে টাকা নিচ্ছেন। তবে এখনো আমাদের সাইনবোর্ড দেয়া হয়নি।”

পাউবো কর্মকর্তাদের বক্তব্য

পানি উন্নয়ন বোর্ডের শান্তিগঞ্জ শাখার কর্মকর্তা মো. মমিন মিয়া বলেন, “আমরা পিআইসিদের সাইনবোর্ড সরবরাহ করছি। এ জন্য সামান্য কিছু টাকা নিচ্ছি।” তাহিরপুর শাখার কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, “সাইনবোর্ড তৈরি করার দায়িত্ব পিআইসিদের। তবে তারা না করায় আমরা নিজেরা সরবরাহ করছি। এবার ৭৬টি পিআইসির জন্য সাইনবোর্ড অর্ডার দেয়া হয়েছে, যা শিগগিরই সরবরাহ করা হবে।”

নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিক্রিয়া

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “এই বিষয়ে পরে বিস্তারিত কথা বলব,” উল্লেখ করে তিনি ফোন কেটে দেন।

প্রকল্পের কাজে ধীরগতি

প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ করতে না পারার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দাবি করেছেন, অনিয়ম বন্ধ করে দ্রুত ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করা হোক।

 

4o