দিরাই উপজেলার করিমপুর ও তাড়ল ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর এবং নিম্নমানের হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এভাবে কাজ চলতে থাকলে এপ্রিল মাসেও বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হবে না।
পরিদর্শনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বাঁধের ক্লোজারগুলোর কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি, যা কৃষকদের আরও শঙ্কিত করে তুলেছে। করিমপুর ইউনিয়নের ৮০ নম্বর প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, কাজ চলছে, তবে ক্লোজারের স্লোপের কাজ এখনো বাকি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি জানান, প্রথম দফায় দেওয়া বাজেট অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বাজেট বাড়ানো হলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।
একই ইউনিয়নের ৮১ নম্বর প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের জন্য এলোমেলোভাবে কিছু মাটি ফেলে রাখা হয়েছে, কিন্তু কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। বড় মাটির চাকা পড়ে থাকলেও মনিটরিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। কৃষকদের আশঙ্কা, সামান্য বৃষ্টি হলেই এই মাটি ধসে পড়বে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বাঁধের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে দায় চাপানো হবে কাঁকড়া বা ইঁদুরের ওপর, অথচ বাস্তবতা হচ্ছে নিম্নমানের কাজের কারণে বাঁধ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
তাড়ল ইউনিয়নের ৮৩ নম্বর প্রকল্পেও একই অবস্থা। কাজ বন্ধ থাকায় বাঁধে কাউকে পাওয়া যায়নি। কিছু দূর দূর মাটি ফেলে রাখা হলেও কাজের গুণগত মান অত্যন্ত খারাপ। গত বছরের বাঁশের কিছু কাঠামো থাকলেও এ বছর নতুন করে বাঁশের কাজ করা হয়নি।
প্রতিটি বাঁধের কাজ শুরু হয়েছিল ১৫ ডিসেম্বর, অথচ নির্ধারিত সময়ের আর মাত্র বিশ দিন বাকি থাকলেও বেশিরভাগ স্থানে মাত্র ৩৫-৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় এক কৃষক জানান, প্রতিবছর মাঘ মাসে বৃষ্টি হয়, কিন্তু এবার বৃষ্টি না হওয়ায় কাজের গতি আরও শ্লথ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে, যাতে বাজেট বৃদ্ধির সুযোগ পাওয়া যায়।
এদিকে, তাড়ল ইউনিয়নের আরেকটি বাঁধে দুজন শ্রমিককে বাঁশের লাঠি ঠিক করতে দেখা যায়। বাঁধে দুরমুজ করার কথা থাকলেও তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে কাজ করছিলেন। কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, দুরমুজ বাঁধের মালিকের বাড়িতে আছে এবং তাদের এভাবেই কাজ করতে বলা হয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, “সঠিক সময়ে কোনো বাঁধের কাজ শুরু হয়নি, তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দিরাই উপজেলায় এ বছর কাজের ধীরগতি ও গুণগত মান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় খারাপ। আমরা মনে করি, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”
কালনী ভিউ ডেস্ক : 









