বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে বাড়ছে দুর্ঘটনা

 

সকালে রমনা পার্কে হাঁটতে বের হয়েছিলেন অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি। হেঁটে বাসায় ফেরার সময় গলির ভেতর হঠাৎ ব্যাটারিচালিত রিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। শুধু তাই নয়, তিনি পড়ে যান। একপর্যায়ে তার শরীরের ওপর দিয়েই চলে যায় রিকশাটি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তার কপালে ১০টি সেলাই দিতে হয়। পরে বিষয়টি তিনি তার ফেসবুকে শেয়ার করেন।

সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে অফিসে যাচ্ছিলেন সাংবাদিক কাজল ঘোষ। রাস্তা ফাঁকা থাকায় রিকশাটি দ্রুতগতিতে চলছিল। হঠাৎ রাজধানীর সাতরাস্তায় একটি কুকুর সামনে চলে এলে চালক নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে তাৎক্ষণিক ব্রেক করেন। এতে কাজল ঘোষ ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিন দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি কিছুটা সুস্থ হন।

মাস দুয়েক আগে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় মো. শফিকুল ইসলাম নিহত হন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে শাহবাগে একই ধরনের দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মারা যান তানিয়া খানম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় আফসানা করিম রাচি নামে এক শিক্ষার্থী প্রাণ হারান।

রাজধানীজুড়ে লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে, যার ফলে সড়কে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। এত বিপুল সংখ্যক রিকশা নিয়ন্ত্রণ করতেও হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকায় যত্রতত্র এসব রিকশা তৈরি হচ্ছে, যার কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত আয় বৃদ্ধির লোভে অনেকেই অবৈধভাবে রিকশা বানিয়ে সড়কে নামিয়ে দিচ্ছেন, যা ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে বিভিন্ন গতির যানবাহন চলার ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কোনো সঠিক ব্রেকিং সিস্টেম নেই, ফলে ট্রাক বা বাসের ধাক্কায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোর আশপাশে এসব রিকশার বিশৃঙ্খল চলাচলের কারণে যানজটও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ঢাকার মূল সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিশৃঙ্খলা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। চালকদের সড়ক সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান নেই, ফলে তারা অনিয়ন্ত্রিতভাবে যান চালাচ্ছেন। এতে যানজট ও দুর্ঘটনা দুই-ই বাড়ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে বাড়ছে দুর্ঘটনা

Update Time : ০৮:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

সকালে রমনা পার্কে হাঁটতে বের হয়েছিলেন অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি। হেঁটে বাসায় ফেরার সময় গলির ভেতর হঠাৎ ব্যাটারিচালিত রিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। শুধু তাই নয়, তিনি পড়ে যান। একপর্যায়ে তার শরীরের ওপর দিয়েই চলে যায় রিকশাটি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তার কপালে ১০টি সেলাই দিতে হয়। পরে বিষয়টি তিনি তার ফেসবুকে শেয়ার করেন।

সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে অফিসে যাচ্ছিলেন সাংবাদিক কাজল ঘোষ। রাস্তা ফাঁকা থাকায় রিকশাটি দ্রুতগতিতে চলছিল। হঠাৎ রাজধানীর সাতরাস্তায় একটি কুকুর সামনে চলে এলে চালক নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে তাৎক্ষণিক ব্রেক করেন। এতে কাজল ঘোষ ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিন দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি কিছুটা সুস্থ হন।

মাস দুয়েক আগে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় মো. শফিকুল ইসলাম নিহত হন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে শাহবাগে একই ধরনের দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মারা যান তানিয়া খানম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় আফসানা করিম রাচি নামে এক শিক্ষার্থী প্রাণ হারান।

রাজধানীজুড়ে লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে, যার ফলে সড়কে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। এত বিপুল সংখ্যক রিকশা নিয়ন্ত্রণ করতেও হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকায় যত্রতত্র এসব রিকশা তৈরি হচ্ছে, যার কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত আয় বৃদ্ধির লোভে অনেকেই অবৈধভাবে রিকশা বানিয়ে সড়কে নামিয়ে দিচ্ছেন, যা ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে বিভিন্ন গতির যানবাহন চলার ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কোনো সঠিক ব্রেকিং সিস্টেম নেই, ফলে ট্রাক বা বাসের ধাক্কায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোর আশপাশে এসব রিকশার বিশৃঙ্খল চলাচলের কারণে যানজটও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ঢাকার মূল সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিশৃঙ্খলা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। চালকদের সড়ক সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান নেই, ফলে তারা অনিয়ন্ত্রিতভাবে যান চালাচ্ছেন। এতে যানজট ও দুর্ঘটনা দুই-ই বাড়ছে।