বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটের দুই কিশোরীকে কক্সবাজারে নিয়ে বিক্রি!

গার্মেন্টসে কাজ দেওয়ার কথা বলে সিলেটের দুই কিশোরীকে কক্সবাজার নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে হোটেলে আটকে রেখে ১৪ দিন তাদেরকে দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আইনের আশ্রয় নেওয়ায় অপরাধী চক্র তাদেরকে ছেড়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে আসলে ভুক্তভোগীদের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগী দুই কিশোরীর বাড়ি সিলেট শহরতলীর পীরেরবাজার এলাকায়।

ওই দুই কিশোরীর ভাষ্যমতে, বাড়ির পাশের এক নারী তাদেরকে কক্সবাজারে গার্মেন্টসে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ৭ এপ্রিল ওই নারী দুই কিশোরীকে বাসে কক্সবাজারে তার ছেলে ইমনের কাছে পাঠান। কক্সবাজারের ডলফিন মোড় থেকে তাদেরকে নিজের বাসায় নিয়ে যান ইমন। পরদিন ইমন গার্মেন্টসের কথা বলে ভুক্তভোগীদের একটি আবাসিক হোটেলে রেখে আসেন। এরপর ওই হোটেলে ১৪ দিন আটকে রেখে তাদেরকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়।

এদিকে, কক্সবাজার যাওয়ার পর খোঁজ না পেয়ে দুই কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে ৯ এপ্রিল শাহপরাণ থানায় জিডি করা হয়। পুলিশ খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করায় ওই নারী তার ছেলেকে ভুক্তভোগী কিশোরীদের ছেড়ে দিতে বলেন। মুক্তি পেয়ে দুই কিশোরী বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার থেকে সিলেট পৌঁছান।

শাহপরাণ থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, কাজের কথা বলে কক্সবাজার নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজের কথা উল্লেখ করে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে জিডি করা হয়েছিল। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিলেটের দুই কিশোরীকে কক্সবাজারে নিয়ে বিক্রি!

Update Time : ১১:১৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

গার্মেন্টসে কাজ দেওয়ার কথা বলে সিলেটের দুই কিশোরীকে কক্সবাজার নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে হোটেলে আটকে রেখে ১৪ দিন তাদেরকে দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আইনের আশ্রয় নেওয়ায় অপরাধী চক্র তাদেরকে ছেড়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে আসলে ভুক্তভোগীদের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগী দুই কিশোরীর বাড়ি সিলেট শহরতলীর পীরেরবাজার এলাকায়।

ওই দুই কিশোরীর ভাষ্যমতে, বাড়ির পাশের এক নারী তাদেরকে কক্সবাজারে গার্মেন্টসে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ৭ এপ্রিল ওই নারী দুই কিশোরীকে বাসে কক্সবাজারে তার ছেলে ইমনের কাছে পাঠান। কক্সবাজারের ডলফিন মোড় থেকে তাদেরকে নিজের বাসায় নিয়ে যান ইমন। পরদিন ইমন গার্মেন্টসের কথা বলে ভুক্তভোগীদের একটি আবাসিক হোটেলে রেখে আসেন। এরপর ওই হোটেলে ১৪ দিন আটকে রেখে তাদেরকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়।

এদিকে, কক্সবাজার যাওয়ার পর খোঁজ না পেয়ে দুই কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে ৯ এপ্রিল শাহপরাণ থানায় জিডি করা হয়। পুলিশ খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করায় ওই নারী তার ছেলেকে ভুক্তভোগী কিশোরীদের ছেড়ে দিতে বলেন। মুক্তি পেয়ে দুই কিশোরী বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার থেকে সিলেট পৌঁছান।

শাহপরাণ থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, কাজের কথা বলে কক্সবাজার নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজের কথা উল্লেখ করে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে জিডি করা হয়েছিল। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।