বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোকসংগীতের শেকড়ে শিকড় গেড়ে আছেন শাহ আব্দুল করিম

জ লোকসংগীতের মহারথী, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর এই মহান শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘ জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি কাটিয়েছেন গানকে সঙ্গী করে, মানুষের হৃদয়ের ভাষা হয়ে।

শাহ আব্দুল করিমের বেড়ে ওঠা ছিল অভাব-অনটনের ভেতর দিয়ে। দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। পড়াশোনার সুযোগ না পেলেও সংগীতের প্রতি তার অদম্য টান তাকে করে তুলেছিল আলাদা। ছোটবেলা থেকেই মাটি আর মানুষের সান্নিধ্যে, ক্ষেত-খামার আর নদী-নালার পাশে বসে তিনি শুনেছেন লোকগানের সুর, শিখেছেন জীবনের গল্প।

ক্ষেতের কাজ শেষে হাতে তুলে নিতেন দোতারা। গ্রামের হাট-বাজার আর উঠোনের আসরেই প্রথম ছড়িয়ে পড়ে তার গান। দারিদ্র্যের অন্ধকার তাকে আটকাতে পারেনি। ধীরে ধীরে মানুষের মুখে মুখে ভেসে বেড়াতে থাকে তার সৃষ্টি।

শাহ আব্দুল করিম লিখেছেন ও সুর করেছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক গান। তার গানে উঠে এসেছে প্রেম-বিরহ, আনন্দ-বেদনা, সামাজিক বৈষম্য আর মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা। সরল ভাষা ও মাটির গন্ধে ভরা সুরই তার গানকে করেছে কালজয়ী।

আজকের দিনে যখন সমাজে বিভাজন আর অসহিষ্ণুতা বেড়েই চলেছে, তখন করিমের গান আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তিনি বিশ্বাস করতেন—গান মানুষের আত্মার ভাষা, যা পারে মানুষকে একসূত্রে বাঁধতে।

২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শাহ আব্দুল করিম পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও তার গান রয়ে গেছে বাংলার প্রতিটি জনপদে। লোকমেলা থেকে আধুনিক মঞ্চ, ডিজিটাল মাধ্যম থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন সবখানেই আজও ধ্বনিত হচ্ছে তার সুর।

শাহ আব্দুল করিম নেই, কিন্তু তার গান তাকে করেছে অমর। লোকসংগীতের শেকড়ে তিনি যে শিকড় গেড়ে আছেন তা আজও স্পষ্ট হয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বাংলার মাটি ও মানুষের অন্তরে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

লোকসংগীতের শেকড়ে শিকড় গেড়ে আছেন শাহ আব্দুল করিম

Update Time : ০৮:৫৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জ লোকসংগীতের মহারথী, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর এই মহান শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘ জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি কাটিয়েছেন গানকে সঙ্গী করে, মানুষের হৃদয়ের ভাষা হয়ে।

শাহ আব্দুল করিমের বেড়ে ওঠা ছিল অভাব-অনটনের ভেতর দিয়ে। দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। পড়াশোনার সুযোগ না পেলেও সংগীতের প্রতি তার অদম্য টান তাকে করে তুলেছিল আলাদা। ছোটবেলা থেকেই মাটি আর মানুষের সান্নিধ্যে, ক্ষেত-খামার আর নদী-নালার পাশে বসে তিনি শুনেছেন লোকগানের সুর, শিখেছেন জীবনের গল্প।

ক্ষেতের কাজ শেষে হাতে তুলে নিতেন দোতারা। গ্রামের হাট-বাজার আর উঠোনের আসরেই প্রথম ছড়িয়ে পড়ে তার গান। দারিদ্র্যের অন্ধকার তাকে আটকাতে পারেনি। ধীরে ধীরে মানুষের মুখে মুখে ভেসে বেড়াতে থাকে তার সৃষ্টি।

শাহ আব্দুল করিম লিখেছেন ও সুর করেছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক গান। তার গানে উঠে এসেছে প্রেম-বিরহ, আনন্দ-বেদনা, সামাজিক বৈষম্য আর মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা। সরল ভাষা ও মাটির গন্ধে ভরা সুরই তার গানকে করেছে কালজয়ী।

আজকের দিনে যখন সমাজে বিভাজন আর অসহিষ্ণুতা বেড়েই চলেছে, তখন করিমের গান আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তিনি বিশ্বাস করতেন—গান মানুষের আত্মার ভাষা, যা পারে মানুষকে একসূত্রে বাঁধতে।

২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শাহ আব্দুল করিম পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও তার গান রয়ে গেছে বাংলার প্রতিটি জনপদে। লোকমেলা থেকে আধুনিক মঞ্চ, ডিজিটাল মাধ্যম থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন সবখানেই আজও ধ্বনিত হচ্ছে তার সুর।

শাহ আব্দুল করিম নেই, কিন্তু তার গান তাকে করেছে অমর। লোকসংগীতের শেকড়ে তিনি যে শিকড় গেড়ে আছেন তা আজও স্পষ্ট হয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বাংলার মাটি ও মানুষের অন্তরে।