বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এনসিপি নেতা গুলিবিদ্ধ: ঘটনাস্থলে মিলেছে মাদক ও নারীর আলামত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক শক্তির খুলনা বিভাগীয় প্রধান ও কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদারের গুলিবিদ্ধ হওয়া ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ মাদকসেবনের বিভিন্ন আলামত, এক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার এবং নারীর উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদক ও নারীঘটিত বিরোধ বা আড্ডাকেন্দ্রিক দ্বন্দের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন মসজিদ গলির একটি বাড়িতে দুর্বৃত্তরা তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।ওই বাসাটি গত নভেম্বর মাসে তন্নী নামের এক যুবতী এবং তার সঙ্গে থাকা এক অজ্ঞাত যুবক স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া নেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন এনসিপি শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদার।গুলির ঘটনার পরপরই ভাড়াটিয়া তন্নী ও তার তথাকথিত স্বামী আত্মগোপন করেন। সেই বাসার যে রুমে গুলির ঘটনা ঘটে, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ পেয়েছে মাদকসেবনের নানা আলামত, যার মধ্যে রয়েছে নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবশিষ্টাংশ ও সরঞ্জাম। এছাড়া রুমের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি গুলির খোসা।অন্যদিকে, গুলিবিদ্ধ মোতালেব শিকদারকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান—তার মাথায় গুলি ঢোকেনি, বরং মাথার চামড়া ফেটে গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।

পুলিশ ধারণা করছে, মাদক ও নারীদের আড্ডাকেন্দ্রিক বিরোধ বা দ্বন্দ্ব থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে।ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম বলেন, ভাড়াটিয়া দম্পতির পলাতক থাকার কারণে ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।তিনি বলেন, ওই বাসা থেকে মাদকসেবনের আলামত পাওয়া গেছে। মাদক ও নারীদের আড্ডাকেন্দ্রিক কোনো বিরোধ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক দম্পতিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

এনসিপি নেতা গুলিবিদ্ধ: ঘটনাস্থলে মিলেছে মাদক ও নারীর আলামত

Update Time : ১২:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক শক্তির খুলনা বিভাগীয় প্রধান ও কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদারের গুলিবিদ্ধ হওয়া ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ মাদকসেবনের বিভিন্ন আলামত, এক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার এবং নারীর উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদক ও নারীঘটিত বিরোধ বা আড্ডাকেন্দ্রিক দ্বন্দের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন মসজিদ গলির একটি বাড়িতে দুর্বৃত্তরা তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।ওই বাসাটি গত নভেম্বর মাসে তন্নী নামের এক যুবতী এবং তার সঙ্গে থাকা এক অজ্ঞাত যুবক স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া নেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন এনসিপি শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদার।গুলির ঘটনার পরপরই ভাড়াটিয়া তন্নী ও তার তথাকথিত স্বামী আত্মগোপন করেন। সেই বাসার যে রুমে গুলির ঘটনা ঘটে, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ পেয়েছে মাদকসেবনের নানা আলামত, যার মধ্যে রয়েছে নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবশিষ্টাংশ ও সরঞ্জাম। এছাড়া রুমের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি গুলির খোসা।অন্যদিকে, গুলিবিদ্ধ মোতালেব শিকদারকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান—তার মাথায় গুলি ঢোকেনি, বরং মাথার চামড়া ফেটে গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।

পুলিশ ধারণা করছে, মাদক ও নারীদের আড্ডাকেন্দ্রিক বিরোধ বা দ্বন্দ্ব থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে।ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম বলেন, ভাড়াটিয়া দম্পতির পলাতক থাকার কারণে ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।তিনি বলেন, ওই বাসা থেকে মাদকসেবনের আলামত পাওয়া গেছে। মাদক ও নারীদের আড্ডাকেন্দ্রিক কোনো বিরোধ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক দম্পতিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।